Bijoypur Background Story:

সংগীতের বিজয়পুর

১৯৭১। হুমায়ুন আহমেদের ভাষায় “মাতাল হাওয়া” সময়। পৃথিবী মাত্র ষাটের দশক পার হয়েছে। সিভিল রাইটস মুভমেন্ট, চাঁদে অবতরণ, কোল্ড ওয়ার - পাশ্চাত্য দেশ আর বাইরে সদ্য বড় হওয়া তরুণ তরুণীদের অস্থিরতা। আগের প্রজন্মের ছকে বাঁধা জীবনকে চ্যালেঞ্জ করা অহরহ - সেটা থেকেই রক সংগীতের শুরু।

ষাটের দশক কাঁপানো বিটলস ব্যান্ডটা ভেঙে গেলো। জন লেনন এর সহধর্মীনি য়োকো ওনো-র মন্ত্রণা, প্রতিটা গানে খনখনে কণ্ঠে উলুধ্বনি দেয়ার অপচেষ্টা - পল ম্যাকার্টনি আর সহ্য করতে পারছিলেন না। জর্জ হ্যারিসনের ও মন পড়ে আছে হরে কৃষ্ণার আসক্তিতে। রিংগো একা আর কি করবেন? ব্যান্ডটা ভেঙে গেলো - পল ঠুকে দিলেন মামলা। এতো খ্যাতি, এতো অর্থ - প্রিয় বন্ধুতা শত্রুতায় রূপান্তরিত হলো।

লেনন এর আগ্রহ মার্ক্সিজম নিয়ে। পুঁজিবাদের কুৎসিত চেহারা সারা পৃথিবীতেই সয়লাব। লেনন লিখলেন Imagine all the people sharing all the world - শান্তির প্রতীক হিসেবে গাইলেন একটা সাদা পিয়ানোর পেছনে বসে। জন্ম হলো কালজয়ী একটা গান। অনেক সৌভাগ্য যে ওই গানে আমাদের য়োকো-র কণ্ঠ শুনতে হয়নি। তাহলে যে কি হতো!

গিটার ঈশ্বর হিসেবে খ্যাত এরিক ক্ল্যাপটন এর মন বিষন্ন। প্রেমে পড়লে যা হয় আর কি। আর ভালোবাসার মানুষটা যদি অধরা থেকে যায়, তাহলেতো আর কথাই নেই - পুরো মজনু টাইপ অবস্থা। আরব্য রজনী-র লাইলী মজনুর গল্প পড়ে ক্ল্যাপটনের আঙ্গুল থেকে উঠে এলো আরেকটা অভিনব গান - Layla. শুরুতে গানটা তেমন সফল হলোনা - একই গানে দুটো পাশাপাশি স্কেল-র মেলোডি সহ্য করার মতো কান তখনও তৈরি হয়নি শ্রোতাদের মাঝে। ড্রাগ আর এলকোহল এ ডুবে গেলেন ক্ল্যাপটন।

যার জন্য গানটা লেখা সেই প্যাটি বয়েড পাত্তাও দিলেন না ক্ল্যাপটনের আকুতিতে; জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে ঘর তার। যদিও হ্যারিসনের সময় কাটে ভারতীয় হিন্দুত্ব আর সংগীত নিয়ে - বাঙালি রবি শংকর শিক্ষক তাঁর - একই সঙ্গে বন্ধু। সুপার মডেল বয়েড কি করে প্রতিযোগিতা করবেন এই গভীরতার সঙ্গে?

Led Zeppelin এর দলনেতা Jimmy Page chromatic স্কেল আর বারো তারের গিটার নিয়ে তৈরী করলেন আরেকটা অবিস্মরণীয় রীফ। কি এক অপার্থিব ছায়া ওই সুরে - কাগজ আর পেন্সিল নিয়ে লগ ফায়ার এর পাশে বসে - রবার্ট প্লান্ট শব্দ জুড়ে দিয়ে গাইলেন - And she's buying a stairway to heaven.

প্রথিতযশা রক সংগীত শিল্পীদের অর্থ আর খ্যাতির শেষ নেই। রোলিং স্টোনস এর ফ্রন্টম্যান মিক জ্যাগার - বিয়ে করবেন। সেই বিয়ে নিয়ে তুমুল হইচই। খবরের কাগজ, ট্যাবলয়েড, অনুগ্রাহী শ্রোতা ভক্ত - সব উপচে পড়েছে বিয়ের ভেন্যুতে। রক সংগীতের প্রথম পাবলিক বিয়ের অনুষ্ঠান - ১৯৭১ এই হলো। সেলিব্রিটি হলে প্রাইভেসীতে ছাড় দিতে হবে - মেনে নেয়া শিখলো শিল্পীরা।

আটলান্টিকের ওপারে আমেরিকায় একটা নতুন প্রযুক্তি এসেছে। ভ্যাকুয়াম টিউব, অসিলেটার আর সলিড স্টেট্ কিছু যন্ত্রাংশ বিশেষভাবে তার দিয়ে জুড়ে দিলে চমৎকার সব নতুন ধ্বনি তৈরি করা যায়। জন্ম হলো Synthesizer এর। জন্মান্ধ প্রতিভাবান সঙ্গীত শিল্পী স্টিভি ওয়ান্ডার এর আনন্দ কে দেখে? অসাধারণ পিয়ানিস্ট স্টিভি এখন এবোনি আর আইভরি keys চাপ দিয়ে তৈরি করে ফেলতে পারেন পুরো একটা গান! বাদ্যযন্ত্র প্রযুক্তি এক ঝাঁপে এগিয়ে গেলো Synthesizer এর আবিষ্কার আর প্রচারণার সাথে সাথে।

সারা পৃথিবীতে অস্থিরতা। উপমহাদেশের ছোট্ট একটা বদ্বীপ - কৃষক, মাঝি, বাউলের দেশ, শুধুমাত্র ধর্মের কারণে ১২০০ মাইল দূরের পাকিস্তান রাষ্ট্রের অংশ সে। মানুষগুলো চরমভাবে অবহেলিত পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী দ্বারা। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দলোন, সুষ্ঠু নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা - সুদিনের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেলো ২৫ মার্চের কালো রাত্রির দুঃস্বপ্নে - পাকিস্তানী শাসকেরা লেলিয়ে দিলো সৈন্য বাহিনী - নিজেরই দেশের নিরীহ ছাত্র আর সাধারণ জনতার উপর। যতই ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন - খবর বের হয়ে গেলো। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন - আর প্রায় এক কোটি মানুষের গৃহহীনতা - যশোর রোড দিয়ে সেই অগণিত শরণার্থীর পায়ে হেঁটে যাওয়া - পাশের দেশে। জীবন বাঁচানোর তাগিদে। আমেরিকার কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ - লিখলেন কবিতা September on Jessore Road.

Millions of babies in pain

Millions of mothers in rain

Millions of brothers in woe

Millions of children nowhere to go...

বিখ্যাত Folk সংগীত শিল্পী জোয়ান বায়েজ - গাইলেন

When the sun sinks in the west

Die a million people of the Bangladesh..

জোয়ান বায়েজের প্রাক্তন প্রেমিক আর সহকর্মী বব ডিলান - খুব দ্বিধায় ভোগেন আজকাল। প্রায় এক দশকের যশ - folk music এর সুরে তিনি লিখে গেছেন তাঁর প্রজন্মের ক্রোধ, ক্ষোভ, ঘৃণা, আর আশার কথা। ইচ্ছে তাঁর রক সংগীতে কিছু একটা করা। এই দ্বিধায় ডিলান মঞ্চ থেকে দূরে। ভাবছেন কি করা যায় - ফেরা কি হবে আর সংগীতের মাঝে?

সৃষ্টিশীল মানুষেরা অনেক দ্বন্দে ভুগতে থাকেন - বেশিরভাগ সময়েই নিজের সঙ্গে। সঙ্গে যোগ হয় এলকোহল আর ড্রাগস্। চিন্তাশক্তিকে, কল্পনাকে, স্বপ্নকে আরেকটু চ্যালেঞ্জ করার জন্য - অথবা নিজের অকল্পনীয় নিঃস্বঙ্গতার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য মাঝে মাঝে মাদকসেবনটা বেশিই হয়ে যায়। ১৯৭১ সাল দেখলো ক্ষণজন্মা প্রতিভাবান jim morrison এর মৃত্যু। যদিও এক বছর আগেই শুরু হয়েছিল এই ঘটনা - Janis Joplin আর Jimmy Hendrix এর ওভারডোজ মৃত্যু নিয়ে।

David Gilmour এর অভিব্যক্তি হলো রক সংগীতের নতুন এক অনুধারা, সাইকোডেলিক-এ । নতুন সব সুরের মূর্ছনা বের হতে থাকলো একের পর এক তাঁর স্ট্র্যাট থেকে।

শিশু শিল্পী মাইকেল জ্যাকসন - খুব খ্যাতি তার। টিভি আর জ্যাকসন ফাইভ এর বদৌলতে সবাই তাকে চেনে। এতো ভালোবাসা, এতো আদর! বাড়ির ভেতরে কিন্তু তার অন্য অবস্থা। তাকে খুব কড়া শাসনে রাখেন বাবা - পারফেক্ট না হলে শারীরিক অত্যাচার। মাইকেলের মানবজীবন কোনোদিনও বের হয়ে আসতে পারেনি সেই দুঃস্বপ্ন থেকে।

মনখারাপ হলে দুঃখের কথাই মনে হয় একের পর এক। ডন ম্যাকলিন - একজন উঠতি সংগীতশিল্পী, লিখলেন -

So, bye-bye, Miss American Pie

Drove my Chevy to the levee, but the levee was dry

And them good ol' boys were drinkin' whiskey and rye

Singin', "This'll be the day that I die

জন্ম হলো আরেকটা কালজয়ী গানের - মার্চ ১৯৭১ এ।

জীবনমুখী শিল্পী জ্যাকসন ব্রাউন ঘুরে বেড়াচ্ছেন মধ্য আমেরিকায়। আরিজোনার ছোট্ট একটা শহর Winslow - কেন জানি শহরের নামটা গেঁথে গেলো তাঁর মাথায়। ফিরে এলেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। কোনো ভাবেই বের করতে পারছেন না - Winslow কে। পিয়ানোয় কর্ড বাজাতে বাজাতে গেয়েই যাচ্ছেন -

Well, I'm standing on a corner

In Winslow, Arizona

And such a fine sight to see…

আর কোনো বাণী আসছেনা। কী গুরুতর অবস্থা। দোতালা এপার্টমেন্টের নিচ তলায় থাকেন দুই বন্ধু - গ্লেন ফ্রেই আর ডন হেনলি। নতুন একটা ব্যান্ড খুলেছেন তাঁরা। তাঁদেরও কান ঝালাপালা। একই কথা - একই কর্ড। কী যন্রণা! গ্লেন লিখে দিলেন পরের দুই লাইন -

It's a girl, my Lord, in a flatbed Ford

Slowin' down to take a look at me

একেবারে সাধারণ কথা। নারী, ঈশ্বর, গাড়ী - ধরায় শান্তি এলো। জ্যাকসন ব্রাউন খুশি হয়ে গানটাই দিয়ে দিলেন গ্লেনকে। দুজনে মিলে লিখলেন - জীবনকে সহজ করার কথা। হয়তো প্রচন্ড অস্থির প্রজন্মের জন্য সেই হালকা গানের খুব প্রয়োজন ছিল। Eagles এTake it easy গানটা অমর হলো সময়ের সেই প্রয়োজনকে মিটিয়ে দিয়ে।

ফিরে আসি ছোট্ট সেই বদ্বীপের গল্পে। পুঁজিবাদী পৃথিবীর শাসকগোষ্ঠীকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলছে সেখানে স্বাধীনতা সংগ্রাম। ওই যে লিখেছিলাম শরণার্থীদের কথা? আরো কিছু মানুষ দেশের সীমানা পার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে - ট্রেনিং নিয়েছে নিজেদের যুদ্ধ নিজেরাই চালিয়ে নেয়ার জন্য। সেই দামাল ছেলে মেয়েরা ফিরে এসেছে, পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীকে রুখে দাঁড়াতে, ভালোবেসে আমরা তাঁদের ডাকলাম মুক্তি বাহিনী। শুরু হলো মুক্তি যুদ্ধ।

একটা যুদ্ধ কিন্তু শুধু অস্ত্র আর সৈন্য দিয়ে হয়না। আরেকটা বড় কাজ থাকে প্রচারণায় - পৃথিবীর সবাইকে জানানো কেন হচ্ছে যুদ্ধটা - কেন “বাংলাদেশ” একটা দেশ - কেন স্বাধীনতা প্রয়োজন ওই জাতির জন্য।

রবি শংকর দেখছেন কি হচ্ছে বাংলাদেশে। ভাবছেন কি করে খবরটা প্রচার করা যায় পাশ্চাত্যের জনসাধারনের কাছে। পুঁজিবাদী পাশ্চাত্যের সরকারগুলোতো বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিপক্ষে। কথা বললেন তিনি তাঁর ছাত্র আর বন্ধু জর্জ হ্যারিসন এর সঙ্গে। হ্যারিসন শুনলেন - একটা অভিনব চিন্তা উঁকি দিলো তাঁর মাথায়। নিউইয়র্ক এর ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে একটা কনসার্ট করলে কেমন হয় ? শুধু তাঁর নিজের ব্যান্ড নয় - আরও কিছু রক সংগীতের গুরুধরকে যদি জোগাড় করা যায়? . .. চললো একের পর এক ফোন তিন মাস ধরে। অনেকেই সাড়া দিলেন।

অগাস্ট ১। স্টেডিয়াম উপচে পড়া সেই কনসার্ট শুরু হলো - পন্ডিত রবি শঙ্করের “বাংলা ধুন” দিয়ে। তবলায় সঙ্গত করছেন প্রিয়বন্ধু উস্তাদ আল্লারাখ্খা - চোখে তার কী আনন্দ! পাশেই সরোদ হাতে আরেক বন্ধু আলী আকবার খান। গম্ভীর ব্যক্তিত্বের মানুষটি সরোদে ঝড় তুললেন রবি শঙ্করের সেতার এর ঝংকারের উত্তরে। বাংলার মেয়ে কমলা চক্রবর্তী তানপুরায় ধরে রাখলেন উপমহাদেশের এই তিন সংগীত মহীরুহের সৃষ্টিসুখের উল্লাস।

মঞ্চে ফেরা নিয়ে দ্বিধান্বিত বব ডিলান গিটার হাতে গাইলেন - The answer, my friend, is blowin' in the wind.. বয়েডের জন্য লেখা প্রেমের গান Something গাইলেন হ্যারিসন। সেই একই বয়েডের প্রেমে ব্যর্থ ক্ল্যাপটনও অর্ধমাতাল অবস্থায় হ্যারিসনের পাশে গিয়ে বাজালেন - While my guitar gentle weeps. Beatles এর রিংগো-ষ্টার স্টেজ এ উঠলেন দ্বিতীয় ড্রামার হয়ে। সবাই মিলে গাইলেন -

We've got to relieve Bangladesh

Relieve the people of Bangladesh.

এই কনসার্ট এর মাধ্যমে পাশ্চাত্যের অনেকেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নামটা শোনে। প্রচুর অর্থ সংগ্রহ হয় ওই দেশটার জন্য। বাংলাদেশের কথা তো আমরা সবাই জানি। কয়েকমাসের মধ্যেই বিজয় চলে আসে আমাদের। স্বাধীনতা কিন্তু পৃথিবীর সমস্ত জাতির ভাগ্যে জোটেনা। আমরা গর্ব করে বলতে পারি একটা দেশ আছে আমাদের।আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি জর্জ হ্যারিসন আর পন্ডিত রবি শংকরকে। কিছু কিছু ভালোবাসা থেকে যায় চিরদিন।

আর রক সংগীত? কনসার্ট ফর বাংলাদেশকে বলা হয় রক সংগীতের একটা আইকনিক মোমেন্ট। এর আগে কখনই কোনো বিশেষ “cause” এর জন্য এতো বিশাল আয়োজনে কনসার্ট হয় নি। জর্জ হ্যারিসন প্রমাণ করে দেখিয়েছেন সংগীতের শক্তি কতটুকু। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তখন থেকে অনেক অনেক বড় কনসার্ট হয়েছে চ্যারিটির জন্যে - বব গেলডফ বলে গেছেন - ১৯৮৪ সালের লাইভ এইড কনসার্ট আয়োজনের অনুপ্রেরণা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ - যেটা আটলান্টিক এর দুপাড়ে একই সাথে হয়েছিল আফ্রিকাকে সাহায্য করার জন্য।

ক্ষোভ, দুঃখ, বেদনা, মৃত্যু - এই সব ঋণাত্মক আবেগ থেকে উৎসারিত সংগীতের এই শাখা - রক, ১৯৭১ -এ দেখিয়ে দিয়েছে কত শক্তি, কত পসিটিভিটি গিটার গুলোর ডিস্টর্টেড গর্জনে , ড্রামস এর বজ্রনাদে , বেইজ গিটারের গাম্ভীর্যে, আর কণ্ঠশিল্পীর যন্ত্রনাময় চিৎকারে।

১৯৭১ বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য এক বিজয়পুর। এই বিজয়পুর রক সঙ্গীতেরও।

আব্দুল্লাহ আল আমীন পিয়াল

অস্টিন, টেক্সাস

1971 - Never a dull moment by David Hepworth বইটা থেকে সিংহভাগ অনুপ্রেরণা। বাকীটা উইকিপিডিয়ার।

রচনা কাল: অক্টোবর ২৩, ২০২১

Press Release: 1971- BijoyPur , "১৯৭১ - বিজয়পুর "


"1971 - বিজয়পুর"

We are working on a very unique story. বিজয়পুর (Bijoypur) is a Bangla word that describes a place where victory is sealed. This song refers to various historical events and personalities from the rock music scene from the 70-71 era, provides hints to how these events worked as the catalyst of change throughout the world, people's view on world politics, and talks about how Bangladesh's fight for freedom which was aided by this very change, in turn, altered the world of rock music forever. A lot of research went behind this song. Facts were gathered for the lyric. The facts were then tied carefully through the passionate tune, and music arrangements paid subtle tributes to the 70s rock signature styles. Anger, Sadness, Pain, Death - emanating from all these negative emotions - Rock, a unique branch of music, has shown in 1971 how much power, positivity is hidden in the distorted roar of guitars, in the thunders of the drums, in the depth of the bass guitar, and in the vocal's heart wrenching passionate appeals through the magical lyrics. The year 1971 is a বিজয়পুর (Bijoypur) for Bangladesh's existence. This বিজয়পুর (Bijoypur) also belongs to the world's rock music equally. We expect to release this song on 16th December as an homage to Bangladesh's 50th birthday, and to all the rockers out there who stood up for what is right when we needed them the most.

=======


# GAP-ATX is in Austin, Texas, and S&R is in NJ.

# Song written and tuned by Abdullah Al Amin of GAP-ATX.

# Composition Arrangement by GAP-ATX/S&R.

# Videography by Razib Hasan Russell of Art Lab Media Productions, NJ, aided by Helal Ahmed of Studio Gaan Bajna, NY. and Tahsin Askar for video in Austin, Texas.

# Mixing and Mastering by Samir Hafiz (Holy Lane Studios, Bangladesh).




১৯৭১ নিয়ে টেক্সাস আর নিউ জার্সির বাংলা ব্যান্ড GAP-ATX এবং S&R এর যৌথ প্রয়াসে নতুন গান "১৯৭১ - বিজয়পুর"

২০১৮ সালের মাঝামাঝি David Hepworth এর লেখা "1971 - Never a Dull Moment" বইটি পড়ে খুব অবাক অস্টিন, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পিয়াল । নানা ঘটনা, বিভিন্ন পরিক্রমা শেষে ঘুরে ফিরে বাংলাদেশের কথা অনেকবারই এসেছে এই বইতে । ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত পিয়ালের মাথায় ঘুরতে থাকে নতুন এক গানের কলি -

"লায়লার প্রেমে ডুব Eric Clapton

হরে কৃষ্ণার মদে বুঁদ George Harrison

উলুধ্বনি মন্ত্রণা বিটলসটা ভেঙে যায়

Lennon Imagine আর

(Paul) McCartney মামলায়...

উনিশশো একাত্তর

জন্ম নেয় এক গান এক বিজয়পুর

উনিশশো একাত্তর

দুঃখ হাসি শোক আর্তনাদ ভরপুর..."

'১৯৭১ - বিজয়পুর" পুরো গানটি জুড়েই আছে রক সংগীতের নানা ঐতিহাসিক ঘটনা, ব্যক্তিত্ব আর গানের রেফারেন্স; আছে ইঙ্গিত কিভাবে এই ঘটনাগুলো ১৯৭০-১৯৭১ জুড়ে কাজ করে সময়ের পালাবদলের অনুঘটক হিসেবে, আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম কিভাবে চিরতরে বদলে দেয় রক সংগীত ঘরানাকে!

পরের ৩ বছর ধরে একটু একটু করে গানটার পরিমার্জন করে চলে টেক্সাসের পিয়াল, অর্ঘ্য, গালিব আর নিউ জার্সির শোভন। রেকর্ডিং হলো দুই অঙ্গরাজ্যের তিন জায়গায় (সমারসেট এবং সাউথ ব্রুন্সউইক, নিউ জার্সি আর অস্টিন, টেক্সাসে) । গানটি দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর সবার চিন্তা হলো ভিডিও করলে কেমন হয়! সমাধান নিয়ে হাজির নিউ জার্সির বন্ধুবর রাজীব রাসেল (আর্টল্যাব মিডিয়া প্রোডাকসন্স ) - গানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিওগ্রাফির সব ঝামেলা নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে শেষ করলো ভিডিওর কাজ । নিউ ইয়র্ক থেকে "ষ্টুডিও গান বাজনা"র হেলালও ভিডিও শুটিঙ এ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো । বাংলাদেশ থেকে ওয়ারফেজের সামির হাফিজ কাঁধে তুলে নিলো মিক্সিং আর মাস্টারিংয়ের কাজ ।

গানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরের পূর্তিতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর আর্টল্যাব মিডিয়া প্রোডাকসন্স এর ইউটউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে। গানটির "১৯৭১- বিজয়পুর - পেছনের কথা" রচনায় অনেক না জানা চমকপ্রদ তথ্য আছে রক সংগীতপ্রেমীদের জন্য ।

খুব সাধারণ ভাবে বলতে গেলে:


"ক্ষোভ, দুঃখ, বেদনা, মৃত্যু - এই সব ঋণাত্মক আবেগ থেকে উৎসারিত সংগীতের এই শাখা - রক, ১৯৭১ -এ দেখিয়ে দিয়েছে কত শক্তি, কত পসিটিভিটি গিটার গুলোর ডিস্টর্টেড গর্জনে , ড্রামস এর বজ্রনাদে , বেইজ গিটারের গাম্ভীর্যে, আর কণ্ঠশিল্পীর যন্ত্রনাময় আর্তনাদে।

১৯৭১ বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য এক বিজয়পুর। এই বিজয়পুর রক সঙ্গীতেরও।"

GAP-ATX ব্যান্ড: পিয়াল, গালিব, অর্ঘ্য ; S&R ব্যান্ড: রাজিব রাসেল, শোভন রহমান